ব্রিটেনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় এবারও বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত লুতফুর
ব্রিটেনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় এবারও বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত লুতফুর
তারেক চৌধুরী, লন্ডন

এবারও টাওয়ার হেমলেটসের প্রথম নির্বাহী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মেয়র লুতফুর রহমান ব্রিটেনের শীর্ষ পত্রিকা ডেইলি টেলিগ্রাফে এ সময়ের সেরা ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অক্টোবরে সাফল্যের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির মুহূর্তে মেয়র, তার সমর্থক ও কমিউনিটির জন্য এটা একটা সুসংবাদ। পুরো ব্রিটেনের প্রথম এথনিক কমিউনিটির নির্বাচিত মেয়র লুতফুর রহমান টপ হান্ড্রেডস মোস্ট ইনফ্লুয়েন্সিয়াল পিপল অন দ্য লেফট ২০১২ শিরোনামে প্রকাশিত তালিকায় ৬৮তম অবস্থান রয়েছেন। একজন নির্বাচিত মেয়র হিসেবে ২০১১ সালে তিনি এই তালিকায় যুক্ত হন ৭৮তম স্থানে, এবার তিনি ১০ জনকে টপকে আরও এগিয়ে গেছেন। ব্রিটেনের রাজনীতিক, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, ক্যাম্পেইনার ও বুদ্ধিজীবী ইত্যাদি নানা পর্যায়ে বিশেষ প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন এমন ব্যক্তিত্বদের এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
২০০৯ সাল থেকে এই তালিকা প্রকাশ শুরু হয় এবং প্রতি বছরের তালিকা দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যায় রাজনীতিবিদদের ক্ষমতার উত্থান-পতনের দিকটি। একসময় তালিকার শুরুর দিকে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন ৭৫ জনের পেছনে পড়ে কোনোমতে ১০০ নম্বরে জায়গা করেছেন। টেলিগ্রাফ লিখেছে, গর্ডন ব্রাউন ক্ষমতা হারানোর পর তেমন কোনো অবস্থান বা দায়িত্বে থাকতে পারেননি। অন্যদিকে টনি ব্লেয়ার রয়েছেন ২৩তম স্থানে এবং তার ব্যাপারে টেলিগ্রাফের কথা হচ্ছে, তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়লেও রয়েছেন ইউএনসহ নানা প্রভাবশালী পর্যায়ে, লেবার লিডার এডমিলিবান্ডের অলিম্পিক লিগেসি অ্যাডভাইজার হিসেবেও তিনি কাজ শুরু করেছেন। আর টেলিগ্রাফের তালিকায় এক নম্বরে থাকা এডমিলিবান্ডকে দেখা হচ্ছে সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা এবং ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।
তালিকায় ডেইলি মিরর এডিটর, গার্ডিয়ান এডিটর, বিবিসির ইকোনমিক্স এডিটরসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সাংবাদিকও রয়েছেন। রয়েছেন শীর্ষ ট্রেড ইউনিয়নিস্টরা।
তালিকায় স্থান পাওয়া একমাত্র বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত অরিজিন ব্যক্তিত্ব মেয়র লুতফুর রহমান সম্পর্কে ডেইলি টেলিগ্রাফে উল্লেখ করা হয়, তিনি খুবই সক্রিয় একজন কমিউনিটি লিডার যিনি প্রথমবারের মতো টাওয়ার হ্যামলেটসে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। পরে তাকে মেয়র পদে পার্টি থেকে নমিনেশন না দেয়া হলেও তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হন এবং ৫১% ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বর্তমানে তাকে একজন সফল মেয়র হিসেবে দেখা হচ্ছে, যিনি এলাকায় বিপুল পরিবর্তন এনেছেন।
উল্লেখ্য, লুতফুর রহমান মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১১ সালের শুরুর দিকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এশিয়ান ভয়েস নিউজ পেপার আয়োজিত পলিটিক্যাল অ্যান্ড পাবলিক লাইফ অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী হন। অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-এমপির পাশাপাশি তিনি লোকাল গভর্নমেন্ট সেক্টরে অনন্য অবদানের জন্য এই অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। একই বছরে ব্রিটেনে ১২ হাজার রেস্টুরেন্টের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বিসিএ অনার অ্যাওয়ার্ড এবং ব্রিটিশ বাংলাদেশী হুজ হু’র পক্ষ থেকে বিশেষ অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত হন।
আরও ২১ অক্টোবর ২০১০ সালে তা বিজয়ের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ বাংলাদেশীদের জন্য এক অনন্য ইতিহাস রচিত হয়। প্রথম বাংলাদেশী নির্বাচিত এক্সিকিউটিভ মেয়র হিসেবে ইতিহাসের খাতায় নাম লেখান বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত পলিটিশিয়ান লুতফুর রহমান। শুধু বাংলাদেশী নয়, তিনি হচ্ছেন ব্রিটেনের ফার্স্ট মুসলিম এবং ফার্স্ট এশিয়ান বা এথনিক কমিউনিটির নির্বাচিত মেয়র। সারা ব্রিটেনে থাকা আরও ১৩ জন নির্বাচিত মেয়রের মধ্যে তিনি ছাড়া বাকি সবাই শ্বেতাঙ্গ। এছাড়া এ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণের সত্যিকারের মেয়রের খ্যাতি পান লুতফুর। তার দায়িত্বে রয়েছে ১.২ বিলিয়ন পাউন্ড বাজেট এবং ১১ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী।
নির্বাচিত এক্সিকিউটিভ মেয়র হিসেবে ফুলটাইম কমিটমেন্টে যাওয়ার আগে লুতফুর রহমান ছিলেন একজন প্রখ্যাত ফ্যামিলি অ্যান্ড চাইল্ড প্রটেকশন ল’ স্পেশালিস্ট ও সিনিয়র সলিসিটর। লন্ডনজুড়ে সাতটি শাখাধারী মেককরমেক্স নামক ল’ প্রতিষ্ঠানের তিনি ছিলেন সিনিয়র পার্টনার। এছাড়া তিনি হচ্ছেন ব্রিটিশ ল’ সোসাইটি এবং ল’ সোসাইটি অ্যাডভান্স চিলড্রেন ল’ প্যানেলের মেম্বার।
লুতফুর রহমান ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বার্টস অ্যান্ড রয়েল লন্ডন এনএইচএস ট্রাস্টের নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ছিলেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ছিলেন টাওয়ার হ্যামেলটস ল’ সেন্টারের সদস্য এবং চেয়ার।
১৯৮৯ সালে তরুণ বয়সে লেবার পার্টিতে যোগ দেন লুতফুর রহমান এবং ’৯০-এর পর থেকে সব স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করেন। লুতফুর রহমান চার বছর বয়সে এদেশে আসেন বালাগঞ্জের সিকন্দরপুর গ্রাম থেকে। ১৯৫৭ সাল থেকে তার বাবা ব্রিটেনে বসবাস করছেন।
লুতফুর রহমান পারিবারিক জীবনে বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। তার সন্তানরা পড়ছেন বারার স্টেট স্কুলে। তিনিও বাস করছেন হার্ট অব বাংলাটাউন ব্রিকলেন এলাকায় এবং পড়েছেন বারার স্টেট স্কুলে। পরে এলএলবি অনার্স করেছেন সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে।
টেলিগ্রাফে তালিকাভুক্তির ব্যাপারে নির্বাহী মেয়র লুতফুর বলেন, এর মাধ্যমে সামান্য সম্মানিত হওয়ার সুযোগ থাকলে সেটির দাবিদার আমার এলাকার মানুষ। এছাড়া এমন তালিকায় যাওয়া বা অ্যাওয়ার্ড পাওয়া বড়কথা নয়, বড় হচ্ছে—আমি কমিউনিটির জন্য কী করছি। আশা করি, আমার কর্মের মাধ্যমে আমাকে এলাকার বাসিন্দারাও মূল্যায়ন করবেন।
২০০৯ সাল থেকে এই তালিকা প্রকাশ শুরু হয় এবং প্রতি বছরের তালিকা দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যায় রাজনীতিবিদদের ক্ষমতার উত্থান-পতনের দিকটি। একসময় তালিকার শুরুর দিকে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন ৭৫ জনের পেছনে পড়ে কোনোমতে ১০০ নম্বরে জায়গা করেছেন। টেলিগ্রাফ লিখেছে, গর্ডন ব্রাউন ক্ষমতা হারানোর পর তেমন কোনো অবস্থান বা দায়িত্বে থাকতে পারেননি। অন্যদিকে টনি ব্লেয়ার রয়েছেন ২৩তম স্থানে এবং তার ব্যাপারে টেলিগ্রাফের কথা হচ্ছে, তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়লেও রয়েছেন ইউএনসহ নানা প্রভাবশালী পর্যায়ে, লেবার লিডার এডমিলিবান্ডের অলিম্পিক লিগেসি অ্যাডভাইজার হিসেবেও তিনি কাজ শুরু করেছেন। আর টেলিগ্রাফের তালিকায় এক নম্বরে থাকা এডমিলিবান্ডকে দেখা হচ্ছে সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা এবং ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।
তালিকায় ডেইলি মিরর এডিটর, গার্ডিয়ান এডিটর, বিবিসির ইকোনমিক্স এডিটরসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সাংবাদিকও রয়েছেন। রয়েছেন শীর্ষ ট্রেড ইউনিয়নিস্টরা।
তালিকায় স্থান পাওয়া একমাত্র বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত অরিজিন ব্যক্তিত্ব মেয়র লুতফুর রহমান সম্পর্কে ডেইলি টেলিগ্রাফে উল্লেখ করা হয়, তিনি খুবই সক্রিয় একজন কমিউনিটি লিডার যিনি প্রথমবারের মতো টাওয়ার হ্যামলেটসে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। পরে তাকে মেয়র পদে পার্টি থেকে নমিনেশন না দেয়া হলেও তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হন এবং ৫১% ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বর্তমানে তাকে একজন সফল মেয়র হিসেবে দেখা হচ্ছে, যিনি এলাকায় বিপুল পরিবর্তন এনেছেন।
উল্লেখ্য, লুতফুর রহমান মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১১ সালের শুরুর দিকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এশিয়ান ভয়েস নিউজ পেপার আয়োজিত পলিটিক্যাল অ্যান্ড পাবলিক লাইফ অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী হন। অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-এমপির পাশাপাশি তিনি লোকাল গভর্নমেন্ট সেক্টরে অনন্য অবদানের জন্য এই অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। একই বছরে ব্রিটেনে ১২ হাজার রেস্টুরেন্টের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বিসিএ অনার অ্যাওয়ার্ড এবং ব্রিটিশ বাংলাদেশী হুজ হু’র পক্ষ থেকে বিশেষ অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত হন।
আরও ২১ অক্টোবর ২০১০ সালে তা বিজয়ের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ বাংলাদেশীদের জন্য এক অনন্য ইতিহাস রচিত হয়। প্রথম বাংলাদেশী নির্বাচিত এক্সিকিউটিভ মেয়র হিসেবে ইতিহাসের খাতায় নাম লেখান বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত পলিটিশিয়ান লুতফুর রহমান। শুধু বাংলাদেশী নয়, তিনি হচ্ছেন ব্রিটেনের ফার্স্ট মুসলিম এবং ফার্স্ট এশিয়ান বা এথনিক কমিউনিটির নির্বাচিত মেয়র। সারা ব্রিটেনে থাকা আরও ১৩ জন নির্বাচিত মেয়রের মধ্যে তিনি ছাড়া বাকি সবাই শ্বেতাঙ্গ। এছাড়া এ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণের সত্যিকারের মেয়রের খ্যাতি পান লুতফুর। তার দায়িত্বে রয়েছে ১.২ বিলিয়ন পাউন্ড বাজেট এবং ১১ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী।
নির্বাচিত এক্সিকিউটিভ মেয়র হিসেবে ফুলটাইম কমিটমেন্টে যাওয়ার আগে লুতফুর রহমান ছিলেন একজন প্রখ্যাত ফ্যামিলি অ্যান্ড চাইল্ড প্রটেকশন ল’ স্পেশালিস্ট ও সিনিয়র সলিসিটর। লন্ডনজুড়ে সাতটি শাখাধারী মেককরমেক্স নামক ল’ প্রতিষ্ঠানের তিনি ছিলেন সিনিয়র পার্টনার। এছাড়া তিনি হচ্ছেন ব্রিটিশ ল’ সোসাইটি এবং ল’ সোসাইটি অ্যাডভান্স চিলড্রেন ল’ প্যানেলের মেম্বার।
লুতফুর রহমান ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বার্টস অ্যান্ড রয়েল লন্ডন এনএইচএস ট্রাস্টের নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ছিলেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ছিলেন টাওয়ার হ্যামেলটস ল’ সেন্টারের সদস্য এবং চেয়ার।
১৯৮৯ সালে তরুণ বয়সে লেবার পার্টিতে যোগ দেন লুতফুর রহমান এবং ’৯০-এর পর থেকে সব স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করেন। লুতফুর রহমান চার বছর বয়সে এদেশে আসেন বালাগঞ্জের সিকন্দরপুর গ্রাম থেকে। ১৯৫৭ সাল থেকে তার বাবা ব্রিটেনে বসবাস করছেন।
লুতফুর রহমান পারিবারিক জীবনে বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। তার সন্তানরা পড়ছেন বারার স্টেট স্কুলে। তিনিও বাস করছেন হার্ট অব বাংলাটাউন ব্রিকলেন এলাকায় এবং পড়েছেন বারার স্টেট স্কুলে। পরে এলএলবি অনার্স করেছেন সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে।
টেলিগ্রাফে তালিকাভুক্তির ব্যাপারে নির্বাহী মেয়র লুতফুর বলেন, এর মাধ্যমে সামান্য সম্মানিত হওয়ার সুযোগ থাকলে সেটির দাবিদার আমার এলাকার মানুষ। এছাড়া এমন তালিকায় যাওয়া বা অ্যাওয়ার্ড পাওয়া বড়কথা নয়, বড় হচ্ছে—আমি কমিউনিটির জন্য কী করছি। আশা করি, আমার কর্মের মাধ্যমে আমাকে এলাকার বাসিন্দারাও মূল্যায়ন করবেন।

২৩ টি মন্তব্য |
২৪৪ বার প্রদর্শিত 









